বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারী ২০২৬ - ২১:২৭
বিশিষ্ট আলেম ড. সৈয়দ মুহসীন রেযা আবদী সাহেব পেলেন ‘খাতুন-এ-জান্নাত আওয়ার্ড–২০২৬’

কলকাতা: নূরুল ইসলাম একাডেমীর বিশেষ উদ্যোগে বাংলা রাজধানী কলকাতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক সেমিনার।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা: নূরুল ইসলাম একাডেমীর বিশেষ উদ্যোগে বাংলা রাজধানী কলকাতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক সেমিনার। “খাতুন-এ-জান্নাত সেমিনার” শিরোনামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কলকাতার মৌলালী যুবকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও আগ্রহে এক স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানের এক বিশেষ ও গৌরবময় পর্বে দেশের বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও দ্বীনি চিন্তাবিদ হুজ্জাতুল ইসলাম ড. মওলানা সৈয়দ মুহসীন রেযা আবদী সাহেব-কে প্রদান করা হয় সম্মানজনক ‘খাতুন-এ-জান্নাত আওয়ার্ড–২০২৬’। তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস দ্বীনি খেদমত, শিক্ষা বিস্তারে অবদান এবং সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, জনাব ড. সৈয়দ মুহসীন রেযা আবদী সাহেব প্রায় ৫০ বছর পূর্বে উত্তর প্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় আগমন করেন। আগমনের পর থেকেই তিনি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে একটি বেসরকারি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে আসছেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তাঁর হাতে গড়ে ওঠা প্রায় ৫,০০০ ছাত্র আজ দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ইরাক, ইরানসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার জন্য অধ্যয়নরত রয়েছেন—যা তাঁর শিক্ষাদানের সাফল্য ও প্রভাবের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে ড. সৈয়দ মুহসীন রেযা আবদী সাহেব দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে আহলে বাইতের আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়মিত বক্তব্য ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর বাগ্মিতা, জ্ঞানগভীর আলোচনা এবং আন্তরিক আহ্বান বহু মানুষকে দ্বীনি চিন্তা ও নৈতিকতার পথে অনুপ্রাণিত করেছে।

দীর্ঘ ৫০ বছরের এই নিরলস কর্মপ্রয়াস, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠাবান ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘খাতুন-এ-জান্নাত আওয়ার্ড–২০২৬’ প্রদান করে নূরুল ইসলাম একাডেমী একদিকে যেমন একজন গুণী আলেমকে সম্মানিত করল, অন্যদিকে সমাজের সামনে দ্বীনি খেদমতের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তুলে ধরল।

অনুষ্ঠান শেষে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সম্মাননা ও সেমিনার ভবিষ্যতেও আলেম সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কাজে আরও উৎসাহিত করবে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha